যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনার প্রভাবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে চীনের দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তথ্য বাজারে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে গতকাল জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। খবর রয়টার্স।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলপ্রতি ১৯ সেন্ট কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৬৫ ডলার ৩৫ সেন্টে। অন্যদিকে জুলাইয়ের সরবরাহ চুক্তিতে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম গতকাল কমেছে ব্যারেলে ১৭ সেন্ট। প্রতি ব্যারেলের মূল্য নেমেছে ৬১ ডলার ৯৭ সেন্টে। এদিকে ডব্লিউটিআইয়ের জুনের সরবরাহ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে গতকাল। এ সময় পণ্যটির দাম ৩ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি মূল্য পৌঁছেছে ৬২ ডলার ৭২ সেন্টে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাকত রাভানচির বরাত দিয়ে গত সোমবার জানায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানকে সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে বলে তাহলে আলোচনা ‘কোনো ফল দেবে না’।
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, যেকোনো নতুন চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে বিরত থাকার বিষয়টি থাকতে হবে। কারণ এটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অন্যতম উপাদান।
স্টোনএক্সের বিশ্লেষক অ্যালেক্স হোডস বলেন, ‘কোনো চুক্তি সম্পন্নের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরানের দৈনিক জ্বালানি তেল রফতানি বাড়তে পারে তিন থেকে চার লাখ ব্যারেল।’
এদিকে এশিয়ায় জ্বালানি তেল পরিশোধন লাভজনক হওয়ায় স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ চুক্তিতে তেলের চাহিদা বেড়েছে, যা দাম কিছুটা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করছে। স্পার্টা কমোডিটিজের বিশ্লেষক নিল ক্রসবি বলেন, ‘এশিয়ার দেশগুলোর আমদানির গতি ধীর হলেও বেশকিছু শোধনাগারের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এছাড়া এ অঞ্চলে শক্তিশালী মুনাফা জ্বালানি তেলের বাজারকে সহায়তা করবে।’
এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনার দিকেও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। এ আলোচনা সফল হলে রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে দামে।
আইএনজি ব্যাংকের বিশ্লেষকরা এক নোটে জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনা জ্বালানি তেলের বাজারে গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ কোনো চুক্তি হলে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে।
বৈশ্বিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা মুডি’স শুক্রবার বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের ঋণমান কমিয়ে দিয়েছে। এ খবরও জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। এদিকে বিএমআইয়ের (ফিচ সলিউশনের একটি ইউনিট) বিশ্লেষকরা এক ক্লায়েন্ট নোটে জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে চীনের জ্বালানি তেল খাতে চাহিদা দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। কারণ প্রায় সব ধরনের জ্বালানি তেলজাত পণ্যের চাহিদা কমছে।
তারা আরো বলেন, চীনে অর্থনৈতিক প্রণোদনা বাড়লেও জ্বালানি তেলের চাহিদায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে আরো সময় প্রয়োজন হবে।